তরুন জানার সমর্থনের সভা থেকে নাম না করে অধিকারীদের তীব্র আক্রমণ করলেন মমতা
দি নিউজ লায়ন; “অনেক সম্মান করতাম, ভালবাসতাম। বিশ্বাস ছিল। আমি যদিও সবাইকেই বেশি বিশ্বাস করি। পরে ভুল বুঝতে পারি। আমি হয়তো ঠকে যাই, কিন্তু এতে বিশ্বাসঘাতকদের মুখোশ খুলে যায়।” দক্ষিণ কাঁথির তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতির্ময় করের সমর্থনে জনসভার পর উত্তর কাঁথির তৃণমূল প্রার্থী তরুন জানার সমর্থনের সভা থেকেও নাম না করে অধিকারীদের তীব্র আক্রমণ করলেন মমতা।
রবিবার কর্মসূচির শুরুতেই দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন মমতা। মমতা ভাষণ শুরু করার কিছু ক্ষণের মধ্যেই এগরার মঞ্চে উঠে পড়েন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর সেখানে তখন হাজির কাঁথির তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী । এই দক্ষিণ কাঁথির নির্বাচনী মঞ্চ থেকে মমতা নিজের আত্মশুদ্ধির সুরে বললেন, ‘‘আমি গদ্দারদের চিনতে পারিনি। যাঁরা গদ্দারি করে পালিয়ে গিয়েছেন, তাঁরা কত করে নিয়েছেন জিজ্ঞাসা করুন। নরেন্দ্র মোদী, আপনার গদ্দাররা চোরের সর্দার। ওরা গেল না এল, তাতে আমার কিছু যায় আসেনা।
এদের হাত থেকে মেদিনীপুরকে মুক্ত করতে হবে।’’মমতা বলেন,“আমি সারাদিন মানুষের জন্য কাজ করি। মুখ্যমন্ত্রীর মতো কাজ করি না। চাকরের মতো পরিশ্রম করি। যাঁরা আমার নামে কুৎসা করে তাঁদের এগুলি জানা উচিত।” নির্বাচনী প্রচারের জন্য কয়েকদিন ধরে পূর্ব মেদিনীপুরেই রয়েছেন মমতা।তিনি নিজেও এই জেলার নন্দীগ্রাম আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন।সেই কেন্দ্রে ১ এপ্রিল ভোট গ্রহণ হবে । এদিন দক্ষিণ কাঁথি,উত্তর কাঁথির পাশাপাশি নন্দকুমার বিধানসভা কেন্দ্রেও দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে সভা করেন মমতা। মমতা নাম না করে শুভেন্দুকে তুলোধনা করে বলেন, "ওঁরা সঙ্গে ১৫-২০টা গাড়ি নিয়ে ঘোরেন। সঙ্গে বন্দুকধারী। যেন এখনই কেউ মেরে ফেলবে।
আমি চাই ওঁরা অনেক দিন বাঁচুন। আমার এত ভয় নেই। দুটো গাড়ি নিয়ে ঘুরি। পাইলটও বাজাই না।" মমতা আরো বলেন, "রাস্তাঘাটের বিপুল উন্নয়ন হয়েছে। আমি করেছি। আর নাম করেছে গদ্দাররা।" এভাবেই বারবার নাম না করে কটাক্ষ করেছেন শিশির অধিকারীদের। কর্মসংস্থান নিয়ে মমতা বলেন, "ভারতবর্ষে বেকারত্ব ৪০ শতাংশ বেড়েছে। আর পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব ৪০ শতাংশ কমেছে।দেউচা পাঁচনিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা খনি করছি। আগামী ১০০ বছর বিদ্যুতের কোনও সমস্যা হবে না। সুলভে বিদ্যুৎ দেব ।
লকডাউনের সময় যতজন আটকে পড়েছে, তাঁদের হাতখরচ দিয়ে, ট্রেন ভাড়া করে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। এমনকি যতদিন না আসতে পেরছেন হোটেলে থাকার খরচও দিয়েছি ।" মমতা
স্মরন করিয়েছেন, "দিঘা-কাঁথি রেললাইন আমি ন’মাসে তৈরি করেছিলাম। তারপর হাজার হাজার হোটেল তৈরি হয়েছে। তাজপুরে বন্দর হচ্ছে। আরও ২৫ হাজার চাকরি হবে। হলদিয়ায় কেবল ল্যান্ডিং সেন্টার তৈরি হচ্ছে। ২৫ হাজার চাকরি পাবেন স্থানীয়রা।কাজু বাদামের জন্য অনেক ক্লাস্টার তৈরি করেছি। আগামী দিনেও আরও হবে।"

Post a Comment